বিটকয়েন কি, কেন প্রয়োজন পর্ব- ৩ Bitcoin Mining

Written by: alamin


About : This author may not interusted to share anything with others

Adv header
9 months ago | Date : January 15, 2018 | Category : Bitcoin,E-Banks,Earn Money | Comment : 1 Reply |

বিটকয়েন আসলে কি ? 

বিটকয়েন হল এক প্রকার ইলেকট্রিক কারেন্সি। এ গুলোকে সাধারণত ক্রিপ্টোকারেন্সি বলা হয়ে থাকে। আমরা যে টাকা বা ডলার দিয়ে কেনাবেচা করি তা প্রিন্ট করতে হয়, তৈরি করতে হয়। বিটকয়েনও তৈরি হয়। তবে নরমাল টাকার মত না। কারণ বিটকয়েন প্রিন্ট করতে হয় না। বিটকয়েন তৈরি হয় বিশাল বিশাল অঙ্ক সমাধান করার মাধ্যমে। এখন অনেকে চিন্তা করছেন যে ভার্চুয়াল অর্থের মধ্যে অঙ্কের সমাধান কেন করা লাগবে। আমি এইগুলো সবই এই টিউনে বলব।

বিটকয়েন কিভাবে তৈরি হয়?

বিটকয়েন কিভাবে তৈরি হয় সেটা বোঝার জন্য আগে বুঝতে হবে বিটকয়েন আসলে কিভাবে স্টোর করা হয়। প্রতিটি বিটকয়েন এর একটি করে ব্লকচেইন থাকে।  এর ব্লকচেইন এর তিনটি পার্ট আছে। একটি হল বিটকয়েন এর গোপন সংখ্যা। আরেকটি পার্ট হল কে বিটকয়েনটি কার থেকে কার কাছে গিয়েছে। এবং লাস্ট পার্ট হল একটি প্রাইভেট লগ ফাইল। এই লগ ফাইল দিয়ে বিটকয়েন এর আদান-প্রদান ভেরিফাই করা হয়।

যখন কেউ নিজের ওয়ালেট থেকে আরেকজনের ওয়ালেটে বিটকয়েন পাঠায় তখন বিটকয়েন নেটওয়ার্ক কে কাকে বিটকয়েন পাঠাল তার সবকিছু নিজের সার্ভারে জমা রাখে। কিন্তু যদি সিকিউরিটি ছাড়া এভাবে বিটকয়েন ট্রান্সফার করা হয় তাহলে যে কেউ বিটকয়েন দিয়ে জালিয়াতি করতে পারবে। তাই এই সমস্যার সমাধান হিসেবে যখনই কেউ কোন বিটকয়েন আদান প্রদান করে তখন সেই বিটকয়েনটি আসল কিনা তা ভেরিফাই করতে হয়। এবং এই ভেরিফাই করার কাজটি করে বিটকয়েন মাইনাররা।

বিটকয়েন যখন আদান প্রদান হয় তখন তা ব্লকচেইন এ গিয়ে যোগ হয়।

Unconfirmed Transactions Live updating list of new bitco এই লিং কে গিয়ে আপনি দেখতে পারবেন transactions কি ভাবে confirmed হয়

আগেই বলেছি। তো এই আদান প্রদানটি বৈধ কিনা তা যাচাই করার জন্য ব্লকচেইন এর শেষে একটি হ্যাশ এর দরকার পরে। এবং এই হ্যাশ ছাড়া বিটকয়েন এর আদান প্রদান সম্ভব হয় না। তাই যখনই কেউ কাউকে বিটকয়েন পাঠায় তখন বিটকয়েন মাইনাররা নিজেদের শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করে হ্যাশ তৈরি করে।

আর এই হ্যাশ তৈরি করতে অনেকগুলো তথ্যের প্রয়োজন। যেমন কে বিটকয়েন পাঠাল। কার কাছে বিটকয়েন গেল। এবং এই ব্লকচেইন এর আগের হ্যাশ টিরও প্রয়োজন পরে। এবং এই হ্যাশ তৈরি করতে যে ডাটা গুলো ব্যবহার করা হয় তার একটি সংখ্যা বা অক্ষর পরিবর্তন হলেই পুরো হ্যাশ পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই কেউ যদি এই হ্যাশ পরিবর্তন করে বিটকয়েন জালিয়াতি করতে যায় সাথে সাথে সে ধরা পরে যাবে। কারণ প্রতিটি বিটকয়েন এর আগের হ্যাশ থাকে। তাই কেউ জালিয়াতি করে বিটকয়েন তৈরি করতে পারবে না।

CryptoCurrency Hash কি?

Cryptocurrency মাইনিং পাওয়ার পরিমাপের একক হল হ্যাশ। এই হ্যাশ পাওয়ার কে KH/S , MH/s , GH/s , TH/S ইত্যাদি আকারে প্রকাশ করা হয়।

  • 1 KH/S = 1,024 hashes a second
  • 1MH/s = 1,048,576 hashes a second
  • 1 GH/s = 1,073,741,824 hashes a second
  • 1 TH/s = 1,099,511,627,776 hashes a second

একজন মাইনার সফলভাবে একটি  ব্লক solve করে একটি নতুন হ্যাশ তৈরি করে।হ্যাশ অ্যালগরিদম বিশাল পরিমান ডাটাকে একটি নির্দিষ্ট  দৈর্ঘের  হ্যাশে রুপান্তর করে বড় মানের তথ্যকে সক্রিয় করে। যদি আপনি অ্যালগরিদম জানেন তবে আপনি একটি হ্যাশটি সমাধান করতে পারেন এবং আসল ডেটা খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু সাধারণ চোখের কাছে এটি একটি সংখ্যার  গুচ্ছমাত্র । এখান থেকে  প্রকৃত তথ্য খুঁজে বের করা কার্যত অসম্ভব।  

SHA vs. Scrypt

কয়েন মাইনিং এর জন্য সাধারনত দুই জনের হ্যাশ ফাংশন ব্যবহার করা হয়। SHA-256 এবং Scrypt। এছাড়া অন্যান্য কিছু হ্যাশ ব্যবহার করা হয়।এছাড়া   scrypt-N এবং x11 এই দুটি হ্যাশ ফাংশনও কিছু কিছু কয়েন মাইনিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়।  

বিটকয়েন মাইনার কারা?

বিটকয়েন মাইনাররা তাদের কম্পিউটার ব্যবহার করে বিটকয়েন  আদান-প্রদানের হ্যাশ তৈরি করে। এবং এই হ্যাশ তৈরি করতে অনেক অনেক বেশি প্রসেসিং পাওয়ার দরকার হয়। কারণ এই হ্যাশ কে নির্দিষ্ট ফরম্যাট এ হতে হয়। এবং এই হ্যাশ তৈরি করতে যে ডাটাগুলো লাগে তার মধ্যে একটি ডাটা আছে যেটি কম্পিউটারকে নিজে থেকে দিতে হয়।

এবং যেহেতু একটু হ্যাশ পুরো তৈরি না করে বুঝা যায় না হ্যাশটি ঠিক হয়েছে কিনা। তাই বিটকয়েন মাইনারদের কম্পিউটার এক সেকেন্ডে হাজার হাজার হ্যাশ তৈরি করতে থাকে। এবং দেখতে থাকে এই হ্যাশটি বিটকয়েন এর নেটওয়ার্ক এর প্রয়োজন মোতাবেক হয়েছে কিনা। এবং এই হ্যাশ বিটকয়েন এর নিয়ম মানে কিনা। যদি মানে তাহলে এই হ্যাশ গ্রহণ করা হয়। এবং এর উপহার হিসেবে মাইনারকে কিছু পরিমাণ বিটকয়েন দেয়া হয়।

আপনি নিজেও বিটকয়েন মাইনার হতে পারেন। সর্বপ্রথম যখন বিটকয়েন মাইন করা হয়েছিল তখন খুব কম ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কম্পিউটার দিয়ে তা করা হয়েছিল। কিন্তু যত বেশি বিটকয়েন মাইন করা হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং তত বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

কারণ তখন হ্যাশ গুলো তৈরি করা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই আগে একটি ল্যাপটপ দিয়ে মাইন করা গেলেও এখন অনেক ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার লাগে এবং প্রসেসর এর চেয়ে গ্রাফিক্স কার্ড এই কাজ ভাল করতে পারে  এখন সাধারণত গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে বিটকয়েন মাইন করা যায়, তবে যেমন Graphics card দিয়ে  বিট কয়ের মাইনিং করা যায় তেমন বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য শক্তি শালী ডিভাইস ও বাজারে পাওয়া যায় সেটাকে  ASIC Chip বলা হয় এই  ASIC Chip  এখন বাজারে বিভিন্ন ASIC Chip ডিভাইস পাওয়া যায়, এই ডিভাইস গুলো অনেক ধরনের হয়ে যেমন, Antminer S9, Antminer D3, Antminer T9, Antminer L3+, নিচের ছবিতে দেখতে পারবেন ডিভাইস গুলোর ।

তবে এই ডিভাইস এর এক এক টার এক এক ধরন মাইনিং করে,

  • Antminer S9, Antminer T9  এটি শুধু Bitcoin (BTC)  মাইনিং করা যাবে
  • Antminer D3 এই ডিভাইস দিয়ে শুধু  DigitalCash (DASH) মাইনিং করা যাবে
  • Antminer L3+ এই ডিভাইস দিয়ে শুধু Litecoin (LTC) মাইনিং করা যাবে

ASIC Chip ডিভাইস এর বর্তমানে এরাই সেরা , তবে প্রতিযোগিতার র্মাকেট তাই এর থেকে আরো ভালো এবং শক্তিশালী ডিভাইস হয়তো আছে অথবা আসবে

মাইনিং করতে হলে যেটা লাগবে Graphics card অথবা  ASIC Chip ডিভাইস।

এখন Graphics card এবং ASIC Chip নিয়ে আলোচনা করব

Graphics card vs ASIC Chip Device

গ্রাফিক্স কার্ড আপনি মার্কেট থেকে কিনে নিতে পারবেন আপনার চাহিদা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ,  গ্রাফিক্স কার্ড  দিয়ে যেকোনো কয়েন  মাইনিং করা যায় (শুধু বিটকয়েন ই  cryptocurrency নয় এখন পয়ন্ত  1384+ cryptocurrency বাজারে আসছে তবে সব  cryptocurrency মাইনযোগ্য নয় , কিভাবে cryptocurrency বাজারে আসে সে বিষয় নিয়ে পারে একটি পোষ্ট করবো)

এটি যেকোন সময় ই আপগ্রেড করা যায় , একটি মাদারবোট এর ৫/৬ গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা যায়  যত বেশি গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করবেন তত ইনকাম বাড়বে , কারন গ্রাফিক্স কার্ড এ হ্যাশ পাওয়ার থাকে  সেই হ্যাশ পাওয়ার এর মাধ্যমে cryptocurrency  লেনদেন হয় আপনি যত বেশি প্রোডাকশন দিবেন তত বেশি ইনকাম হবে

আপনার ক্যাপিটাল অনুজাই গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে মাইনিং করতে পারবেন গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে মাইনিং করা টা কে GPU মাইনিং বলে,

GPU মাইনিং এ বর্তমানে ZCash এবং Ethereum ই ভালে, তবে  যেকোনো কয়েনই মাইনিং করা যায় ।

 

GPU  মাইনিং এর জন্য বেষ্ট হার্ডওয়্যার কি কি?

মাদারবোর্ড, প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র‌্যাম, পাওয়ার সাপ্লাই, মনিটর, Motherboard, processor, graphics card, RAM, power supply, monitor

GPU মাইনিং এর জন্য যে  গ্রাফিক্স কার্ড উপযোগী

  • Radeon R9 Nano
  • Radeon Rx 480 GPU
  • Radeon RX 470 Ethereum Mining GPU
  • Radeon R9 7950 GPU
  • Radeon Rx 480 GPU
  • nVidia GTX 1080 TI GPU
  • Radeon RX 470 GPU
  • Radeon R9 295×2
  • Strix Radeon R7 370
  • Radeon R9 390x
  • nVidia GTX 1050 Ti
  • Asus ROG Strix RX 580-O8G
  • MSI GTX 970 OC
  • Asus ROG Strix Radeon RX 570 O4G
  • GeForce GTX 750

এই গ্রাফিক্স কার্ড গুলো দিয়ে আপনি মাইনিং করতে পারবেন তবে প্রতি টা গ্রাফিক্স কার্ড এর দাম যেমন আলাদা তেমন হ্যাশ পাওয়ার ও আলাদা তবে দাম বেশি হলে ইনকাম (হ্যাশ) বাড়বে তা কিন্তু নয় সেটা বুজার জন্য অভিজ্ঞদের সাহাজ্য নিন  ।

মাদারবোর্ড  “ASUS Announces B250 Expert Mining Motherboard: 19 Expansions Slots” মাইনিং এর জন্য বেষ্ট

ASUS Announces B250 Expert Mining Motherboard: 19 Expansions Slots

পাওয়ার সাপ্লাই “6 GPU Miner Case 1600W Ethereum Miner Power Supply For Bitcoin Miners support 6 graphics Card New 7 SATA Interface Mining Power”  মাইনিং এর জন্য বেষ্ট

6 GPU Miner Case 1600W Ethereum Miner Power Supply For Bitcoin Miners support 6 graphics Card New 7 SATA Interface Mining Power

প্রসেসর  core i5 processor  GPU মাইনিং এর জন্য বেষ্ট

র‍্যাম  8 GB to 16 GB  GPU মাইনিং এর জন্য বেষ্ট

মাদারবোর্ড, প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র‌্যাম, পাওয়ার সাপ্লাই, দিয়ে একটি মেশিন তৈরি করে ২৪ ঘন্টা চালু রাখতে হয় , তবে এটি বিদুৎ ডাউন টাইম অথবা কোন কারনে বন্ধ হলে পুনরায় আবার সেটিং করতে হবে মাইনিং এ জন্য অবস্যই এসি রুম লাগবে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্রোডাকশন কমে যাবে এ গুলো সব ঠিক করতে পারলেই  আপনি কয়েন মাইনিং করতে পারবেন ।

ASIC Chip Device

ASIC Chip Device এর সেটিং এ কোনো ঝামেলা নাই, নাই কোনো আলাদা পার্টস এটার সাথে একটি পাওয়ার সাপ্লাই দরকার হয়, কারন শুধু মাত্র মাইনিং এর জন্য তৈরি করা হয় ডিভাইস গুলো , তাই এটা আলাদা আলাদা কোনো পার্স দরকার হয়না, এটা  ইন্টারন্টে এবং বিদুৎ পাওয়ার দিয়ে কনফিগার করে চালু রাখতে হয়, কয়েন মাইনিং এর জন্য এটি সাইজে খুবই ছোট একটি পড়ার টেবিলে /৪ টা মেসিন রাখতে পারবেন ওজন ৫ থেকে ৬ কেজি , এটার উপার্জন ও অনেক বেশি, এটার সুবিধা অনেক।

এটার অসুবিধাটা  বেশ খারাপ নয়

কারন এটা যেমন সাউন্ট হয় তেমন বিদুৎ বিল ও হয় , মনে করবেন আপনার বেডরুমে একটি মটরবাইক  Start করলে যেমন sound  হয় ঠিক তেমন, তবে এই মেশিন কখনো আপগ্রেড করতে পারবেননা অথবা এই মেসিন দিয়ে নিধ্যরিত কয়েন ছাড়া অন্য কোনো কয়েন মাইনিং করতে পারবেন না, কোন ডিভাইস দিয়ে কোন কয়েন মাইনিং এবং দাম কত সেই বিষয় উপরে আলোচনা দেখতে পারেন ।

ASIC Chip Device দিয়ে বাংলাদেশে মাইনিং করতে পারবেননা কারন বাংলাদেশে অনুমোদন নাই । ASIC Chip Device বাংলাদেশে ডুকতে দেয়না , GPU মাইনিং ও বাংলাদেশে অনুমোদন নাই তবে এটার পার্স পাওয়া যায় তাই করা সম্ভব , তবে GPU মাইনিং অনেক স্লো ইনভেষ্ট এর টাকা উঠতে প্রয় ১৪/১৮ মাস সময় লাগে (জানু 2018)এখনকার কয়েন এর প্রাইজ অনুযায়ী,

 

বিটকয়েন কিকেন প্রয়োজন পর্ব-১

বিটকয়েন কিকেন প্রয়োজন পর্ব-২

বিটকয়েন কিকেন প্রয়োজন পর্ব– 

tags: ,,,,,,,,,,,,,,

One Responseso far.

  1. […] বিটকয়েন কি, কেন প্রয়োজন পর্ব- ৩ […]



Parse error: syntax error, unexpected ')' in /home/eiconbd/public_html/blog/wp-content/themes/techtunes/footer.php on line 10