ইন্টারনেট থেকে আয় : গুগল এডসেন্স এর অজানা তথ্য – ১

গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে বছরে ১ লক্ষ ডলারের বেশি আয় করেছে অমুক ব্যক্তি, এধরনের কথা নিশ্চয়ই শুনেছেন। মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার ডলার আয় করার ব্যক্তির উদাহরন খুব কম নেই। এই কথাগুলি এমন ধারনা তৈরী করে যাথেকে অনেকেই মনে করেন, একটি ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ তৈরী করে সেখানে এডসেন্স যোগ করলেই হাজার হাজার ডলার আসতে শুরু করে।

এভাবে পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ আয় করা যায় একথা যেমন ঠিক তেমনি এখানে কিছু ভূল ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে এটাও ঠিক। আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই এডসেন্স ব্যবহার করে আয় করতে চান তাহলে আপনার সেগুলি জানা প্রয়োজন।

Google-adwords1

প্রথমেই জেনে রাখুন, কথাগুলি এভাবে বলা হয় কেন।

যদি বলা হয় আপনি দিনে ৫-৬ ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে আর্টিকেল লিখে যাবেন, মাসের পর মাস, এমন আর্টিকেল যা মানুষ আগ্রহ নিয়ে পড়বে, এজন্য আরো কয়েক ঘন্টা পড়াশোনা করবেন, আপনার সাইটে শতশত এধরনের আর্টিকেল জমা হবে, তারপর সেগুলি পড়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভীড় জমাবে, তারপর আপনি টাকা পাবেন – তাহলে আপনার সেবিষয়ে খুব আগ্রহ থাকার কথা না। মানুষ বেশি পরিমান অর্থ পেতে চায় কাজ না করে। কাজেই বিষয়টি ঘুরিয়ে বলা, এডসেন্স ব্যবহার করুন, বিনা পরিশ্রমে, বিনা খরচে বহু টাকা পাবেন।

বিনা খরচে কথাটা কিছুটা ঠিক। বিনামুল্যে সাইট তৈরী উপকরন, বিনামুল্যে ওয়েব হোষ্টিং ইত্যাদি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এডসেন্স বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্যও খরচ নেই। তাদের দেয়া কয়েক লাইন কোড আপনার ওয়েবসাইটে যোগ করাই যথেষ্ট। আর অর্থ উপার্জনের জন্য আপনাকে পৃথকভাবে পরিশ্রম করতে হচ্ছে না একথাও ঠিক।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পরিশ্রম আপনাকে করতে হচ্ছে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার জন্য। আপনার সাইটে যদি দিনে কমপক্ষে ১০০ ইউনিক ভিজিটর না আসে তাহলে উল্লেখযোগ্য আয় হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা প্রতি ক্লিকের জন্য ১ সেন্ট বা ১০ ডলার (কখনো কখনো আরো বেশি) যা-ই দেয়ার কথা বলুক না কেন। ভিজিটর নেই কথার আরেক অর্থ আপনার কোন আয় নেই।

এডসেন্স থেকে আয় করার জন্য আপনার প্রথম শিক্ষা হতে পারে, বিনা পরিশ্রমে কিছু পাওয়াযায় না

এডসেন্স কিভাবে কাজ করে জানলে বিষয়টি পরিস্কার হবে। গুগলের এডওয়ার্ডস নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। যারা গুগলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে তাদের ব্যবসার প্রচার করতে চান তারা গুগলের সাথে যোগাযোগ করেন। এটাই এডওয়ার্ডস। গুগল সেই কাজ করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লিংক দেয়ার মাধ্যমে। এটা এডসেন্স। আপনার ওয়েবসাইটে এডসেন্স ব্যবহার করলে আপনি বিজ্ঞাপন পাবেন, সেখানে কেউ ক্লিক করলে গুগল টাকা পাবে। সেই টাকার কিছু অংশ আপনাকে দেয়া হবে আপনার সাইট ব্যবহারের কারনে।  গুগল তাদের আয় থেকে কতভাগ দেয় সেটা একমাত্র গুগল নিজে জানে।

কাজেই, যদি এডসেন্স থেকে আয় করতে চান, নিজেকে বলুন, এটা আমার ব্যবসা। ব্যবসারজন্য যতটা পরিশ্রম করা প্রয়োজন করতে রাজি আছি

ব্যবসার মত ধৈয্য ধরে এতে মনোনিবেশ করতে হবে। সুবিধেজনক বিষয় নিয়ে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরী করতে হবে, মাসের পর মাস চেষ্টা করে তাকে উন্নত করতে হবে। সেখানে ভিজিটর আসার ব্যবস্থা করতে হবে। যত বেশি ভিজিটর আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি।

এডসেন্স সম্পর্কে যেভাবে বলা হয়, শুরু করলেই সাথেসাথে টাকা আসতে শুরু করবে, একথা ঠিক না।

কাজগুলি কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নিন।

.          মানুষের আগ্রহ রয়েছে এমন বিষয় নিয়ে ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরী করুন। গুগল আপনার সাইটের প্রতিটি টাইটেল, প্রতিটি আর্টিকেল বিশ্লেষন করে জেনে নেয় সেখানে কোন ধরনের ভিজিটর কত পরিমানে যায়। তা থেকে ঠিক করে সেখানে কোন বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। কাজেই সাইটের বিষয়কে উন্নত করুন। সার্চ তালিকায় আপনার সাইট যত ওপরের দিকে থাকবে আপনার আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি।

.          আপনার বিষয়ের সাথে মিল আছে এমন সাইট সম্পর্কে জানুন। আপনার সাইটের কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করে দেখুন কোন সাইটকে শুরুতে পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সেই সাইট সম্পর্কে একটি রিভিউ লিখতে পারেন, তার একটি লিংক রাখতে পারেন আপনার সাইটে। ফল হিসেবে তারাও আপনার সাইটে ভিজিটর পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

.          বিভিন্ন সাইট এবিষয়ে নানারকম পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং পরামর্শ দেয়।  যেমনhttp://www.selfpromotion.com/ এধরনের সাইট থেকে বিষয়গুলি শিখুন।

.           কিছু ওয়েবসাইট আপনার সাইট বা ব্লকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে। সেখানে আপনার সাইটের ঠিকানা এবং পরিচিতি লিখুন। http://www.technorati.com/ ,http://www.blogrush.com/ , http://pingomatic.com/ ইত্যাদি এধরনের সাইট। এদের মাধ্যমে প্রচার বাড়ান।

.          আপনার সাইটের বিষয় নিয়ে কোন ফোরাম আছে –কি-না সার্চ করে দেখুন। সেখানে নিজের লিংকসহ মন্তব্য লিখুন।

.          বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইট (ফেসবুক-টুইটার) এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের প্রচার বাড়ান।

মোটকথা, আপনি এডসেন্স থেকে যথেস্ট পরিমান অর্থ উপার্জন করতে পারেন যদি একে ব্যবসা হিসেবে দেখেন এবং সেভাবে কাজ করেন। একটি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার দেয়া তথ্য ব্যবহার হতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কাজেই সাথেসাথে ফল পাবেন এটাও ধরে নেবেন না।

চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *